ঢাকায় চলবে ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস

জাতীয়
ঢাকায় চলবে ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস
নিউজ ডেস্ক
১৯ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের ৬৪ কোটি ডলারের অর্থায়নে শুরু হচ্ছে দুটি মেগা প্রকল্প—একটি গ্যাস সরবরাহ নিরাপত্তা এবং অন্যটি বায়ু দূষণ হ্রাসে।

ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংক অফিস বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে জানায়, এই অর্থায়ন দেশের টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি নির্ভরতার বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

দূষণ কমাতে সবচেয়ে নজরকাড়া উদ্যোগ হচ্ছে, ৪০০টি শূন্য নির্গমন বৈদ্যুতিক বাস চালু করা। পুরনো ডিজেলচালিত যানবাহনের বদলে এই ই-বাসগুলো চালু হলে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বায়ুমানের উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিটি বাস পরিচালিত হবে ‘এক ফ্র্যাঞ্চাইজি-এক অপারেটর’ মডেলে, যেখানে চার্জিং, পার্কিং ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা ডিপো থাকবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। পেট্রোবাংলার অধীনে ‘জ্বালানি খাত নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্পে’ এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
এলএনজি আমদানিতে বেসরকারি খাতে ২.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনতে আইডিএ গ্যারান্টি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ওলাঙ্কা বিসিরিয়ু বলেন, “গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে শিল্প ও ঘরোয়া বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্নতা আসবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

২৯ কোটি ডলারের ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট’ এর আওতায় বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
৫টি নতুন ভেহিকেল টেস্টিং সেন্টার, ২০টি মোবাইল নির্গমন ইউনিট এবং দুটি বিদ্যমান কেন্দ্র আধুনিকায়ন এই প্রকল্পের অংশ। এতে বছরে প্রায় ২,৭৩৪ টন PM2.5 নির্গমন হ্রাস সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আনা লুইসা গোমস লিমা বলেন, “এই প্রকল্প শুধু বাংলাদেশেই নয়, আঞ্চলিকভাবে বায়ু দূষণ মোকাবিলায় তথ্য ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির পথ খুলে দেবে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা WHO নির্দেশনার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। অপরদিকে গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশে প্রায়শই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটে।
এই দুই খাতেই উন্নয়ন না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন সেই বিপর্যয় থেকে উত্তরণের একটি কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।