সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার, বিএনপির মামলার পর ডিবির অভিযান

জাতীয়
সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার, বিএনপির মামলার পর ডিবির অভিযান
নিউজ ডেস্ক
২৫ জুন ২০২৫

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “তার নামে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

২২ জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শেরে বাংলানগর থানায় তিন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কাজী হাবিবুল আউয়ালের পাশাপাশি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও কেএম নূরুল হুদা। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়। মামলায় মোট ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। ওই নির্বাচনে কমিশনের অধীনে ব্যাপক অনিয়ম, বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা এবং ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। বিএনপি ও কয়েকটি বিরোধী দল নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে।

২৩ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাবিবুল আউয়ালকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করা হয়। তখন পুলিশ আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হলো।

অন্যান্য সিইসি কারা ছিলেন?

  1. কেএম নূরুল হুদা দায়িত্ব পালন করেন ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত। তার সময় অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

  2. কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ দায়িত্বে ছিলেন ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন পরিচালনা করেন, যেখানে অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করে।

হাবিবুল আউয়ালের গ্রেপ্তার বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে। বিরোধী দলগুলোর মতে, এটি বিচারের পথে এক ধাপ অগ্রগতি। তবে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই অংশ হতে পারে।