শাপলা বাদ: জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষায় ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের দাবির মুখে ‘শাপলা’কে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমোদিত প্রতীকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
বুধবার রাতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, “শাপলা প্রতীক হিসেবে সিডিউলে থাকছে না। আমরা এটি নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলভুক্ত করব না—এ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।”
বর্তমানে নির্বাচনি প্রতীকের তালিকায় ৬৯টি প্রতীক রয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সংখ্যা ১০০–এর বেশি করার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত প্রতীক তালিকা শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।
নাগরিক ঐক্য দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা দাবি করেছিল কেটলির পরিবর্তে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও নিবন্ধনের সময় শাপলাকে প্রতীক হিসেবে চেয়ে আবেদন করে। দুই দলের একক দাবি ও প্রতীকের জাতীয় মর্যাদা ঘিরে বিতর্ক তৈরির পরিপ্রেক্ষিতে ইসি চূড়ান্তভাবে ‘শাপলা’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় প্রতীকের রাজনৈতিক ব্যবহারে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে তারা সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র জানায়, নতুন তালিকায় কয়েকটি প্রতীক বাদ দেওয়া হলেও যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রতীক—যেগুলো সহজেই আলাদা করা যায় এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এ উপযোগী। এতে প্রতীকের সংখ্যা শতক ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, প্রতীক নির্বাচন এখন শুধু সাংবিধানিক বা প্রযুক্তিগত নয়, এটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তাই প্রতীক নির্ধারণে অতীত ঐতিহ্য, জাতীয় গুরুত্ব এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।


