“ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ঐক্যের ডাকে উত্তপ্ত যমুনা বৈঠক: সিদ্ধান্ত না, সংকেত বেশি”

জাতীয়
“ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ঐক্যের ডাকে উত্তপ্ত যমুনা বৈঠক: সিদ্ধান্ত না, সংকেত বেশি”
নিউজ ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৫

বিক্ষোভ আর উত্তেজনায় অস্থির রাজধানীর আকাশ, এরই মাঝে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মঙ্গলবার রাতে এক বিরল রাজনৈতিক সমাবেশে মিলিত হন চারটি বিরোধী দল ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই বৈঠককে অনেকেই বলছেন, ‘নিষ্ক্রিয় প্রশাসনের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিরোধের রূপরেখা’।

গোপালগঞ্জে প্রাণহানি, উত্তরায় উপদেষ্টা অবরুদ্ধ হওয়া কিংবা মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা— সব মিলিয়ে এক অপ্রতিরোধ্য অস্থিরতা। এমন প্রেক্ষাপটে, মূল প্রশ্ন ছিল একটি— “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোথায়?”

এই প্রশ্নের জবাবে প্রশাসনের অক্ষমতা স্বীকার করে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের চোখে ধুলা পড়েছে। গোয়েন্দারা ঘুমিয়ে ছিল, হয়তো স্বপ্ন দেখছিল উন্নয়নের।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বৈঠকে দলগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হলেও, সমন্বয়হীনতা, অব্যবস্থাপনা ও ‘জরুরি সময়ে রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভরশীলতা’ নিয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াত ও এনসিপির নেতারা।

“উপদেষ্টা যদি রাজনৈতিক কর্মীর সহায়তায় উদ্ধার হন, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীর কি প্রয়োজন?”— এমনই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এক নেতা।

বিএনপি মনে করছে, অস্থিরতা চলবে যতদিন না একটি ‘নির্বাচিত সরকার’ দায়িত্ব নেয়। অন্যদিকে ড. ইউনূস বলছেন, “ভালো পরিবেশ ছাড়া ভালো নির্বাচন হয় না— কিন্তু সেই পরিবেশ তৈরি করবে কারা?”

এ এক চক্রব্যূহ— যেখান থেকে বের হওয়ার পথ হয়তো সংলাপেই আছে, কিন্তু সেই সংলাপের ভাষা এখনও পরিস্কার নয়।

বৈঠক শেষে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বললেন, “ঐক্য শুধু কাগজে না, মঞ্চেও দেখাতে হবে। মানুষের চোখে দৃশ্যমান ঐক্যই এখন আশার প্রতীক।”

রাজনৈতিক দলগুলো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়— কে ঠিক করবে কারা ফ্যাসিবাদী?

বৈঠকে ‘সিদ্ধান্ত’ তেমন কিছু হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক ভাষায় সংকেত অনেক। চার দল এক টেবিলে বসেছে— এটিই আপাতত সবচেয়ে বড় বার্তা।

যে ফ্যাসিবাদ আজ একটি শব্দ, কাল সেটিই হতে পারে রাজনীতির নতুন রং— সেদিকে সতর্ক চোখ রেখেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ।