গ্রেপ্তারে নতুন নিয়ম: ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানানো বাধ্যতামূলক
গ্রেপ্তারের পরপরই থানায় নেওয়া হলে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিবার, আইনজীবী বা ঘনিষ্ঠজনকে জানানো বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন,
“কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হলে তার আইনি ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে সংশোধন আনা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীকে দ্রুত জানানো হবে এখন থেকে আইনগত বাধ্যবাধকতা।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় অগ্রগতি। দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসছিল।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাউকে গ্রেপ্তার করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হয়। তবে পরিবারকে তাৎক্ষণিক জানানো নিয়ে এতদিন আইনে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না।
হাইকোর্ট ২০০৩ সালে এক ঐতিহাসিক রায়ে পরিবারের সদস্যকে দ্রুত জানানোর নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবে খুব কমই অনুসৃত হতো। এবার তা আইনে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত হওয়ায় দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংশোধিত প্রস্তাবটি এখন গেজেটে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। অল্প কিছু আইনি যাচাই-বাছাইয়ের পর তা অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আকারে কার্যকর হতে পারে বলে আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এটি কার্যকর হলে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ডিবি, সিআইডি, এন্টি-টেররিজম ইউনিটসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে গ্রেপ্তারের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানানো নিশ্চিত করতে হবে।


