সংসদ নির্বাচন কী হবে পিআর পদ্ধতিতে? রাজনৈতিক ময়দানে উত্তাপ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে—প্রচলিত ‘প্রার্থীভিত্তিক’ না কি ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ (পিআর)—এই প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐক্যমত্য না হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।
একদিকে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পিআর ব্যবস্থাকে “নির্বাচন বিলম্বের চক্রান্ত” বলে আখ্যা দিচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ একাধিক দল বলছে, পিআরই “সুষ্ঠু ও প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন”-এর একমাত্র পথ।
বিএনপির মতে, দেশের সাধারণ মানুষ এখনো পিআর পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “নিম্নকক্ষে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে জনগণের সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার নষ্ট হবে।”
অন্যদিকে জামায়াত ও ইসলামী দলগুলো বলছে, এই পদ্ধতিতে কালো টাকা, পেশিশক্তি ও কেন্দ্র দখলের সুযোগ কমে যাবে। তারা ‘মিশ্র পদ্ধতি’র (MMP) প্রস্তাবও তুলে ধরেছে, যেখানে দলীয় ভোট ও প্রার্থীভিত্তিক ভোট উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির নেতারা আশঙ্কা করছেন, পিআর নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা সামনে নির্বাচনের সময়সূচি পেছাতে পারে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এটা স্পষ্টতই সময়ক্ষেপণের কৌশল। দেশের মানুষ চায় সরাসরি ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচনের সুযোগ।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, “পিআর পদ্ধতি সাধারণত বড় ও ফেডারেল দেশগুলোর জন্য কার্যকর। বাংলাদেশে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে গেলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এই পদ্ধতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়তে পারে, যদি সব দল একমত না হয়। বিশেষ করে নিম্নকক্ষে এটা চালু করা হলে ঝুলন্ত সংসদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।”
বর্তমান এফপিটিপি (FPTP) পদ্ধতিতে একটি দল ৩০-৪০% ভোট পেলেও ২০০টির বেশি আসন পেয়ে যায়। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে সেই আসনসংখ্যা কমে আসবে ১০০-১২০-তে। এতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হবে এবং জোট সরকার গঠনের প্রবণতা বাড়বে।
নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৮টি দল পিআর ব্যবস্থার পক্ষে, বিপক্ষে ২৮টি, আর ৪টি দল এখনো নিরপেক্ষ। নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করা দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কিছু ইসলামী দল পিআরকে “গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের হাতিয়ার” হিসেবে দেখছে।


