জুলাই সনদে বড় পরিবর্তন: সংবিধানের ওপর প্রাধান্যের অঙ্গীকার বাদ পড়তে পারে

জাতীয়
জুলাই সনদে বড় পরিবর্তন: সংবিধানের ওপর প্রাধান্যের অঙ্গীকার বাদ পড়তে পারে
নিউজ ডেস্ক
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল দলিল জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। সংবিধান ও আইনের ওপর সনদের প্রাধান্য এবং আদালতে সনদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার—এই দুই বিষয় থেকে পিছিয়ে আসছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। পাশাপাশি, সনদের ব্যাখ্যার ক্ষমতা আপিল বিভাগকে দেওয়ার প্রস্তাবও বাদ পড়তে পারে।

বাস্তবায়ন পদ্ধতি সনদে থাকবে না। সরকারকে সুপারিশ হিসেবে দেওয়া হবে বিকল্প পথ। সরকারই নির্ধারণ করবে, কোন পদ্ধতিতে সনদ বাস্তবায়ন হবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, প্রায় সব রাজনৈতিক দলের মতামত ও আপত্তি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি সনদের বেশ কিছু দফায় আপত্তি জানানোয় ভাষাগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কী কী পরিবর্তন আসছে?
  1. সংবিধানের ওপরে সনদের প্রাধান্য: মূল খসড়ায় সংবিধানের ওপর সনদের অগ্রাধিকার থাকলেও তা বাতিল হচ্ছে। পরিবর্তে বলা হবে, “যেসব ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, সেখানে সনদের সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হবে।”

  2. সনদের ব্যাখ্যা আপিল বিভাগে: এই অঙ্গীকারও বাদ পড়তে পারে। কারণ, অনেক দল মনে করছে, এটি রাজনৈতিক দলিল, আইনি দলিল নয়।

  3. আদালতে চ্যালেঞ্জ নিষিদ্ধ: মূল খসড়ায় ছিল, সনদের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। আপত্তির পর বলা হতে পারে, “সই করা কোনো দল আদালতে প্রশ্ন তুলবে না।”

সনদে বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদ্ধতি উল্লেখ করা হবে না। গণভোট, সংসদ, অধ্যাদেশ, গণপরিষদ—সব বিকল্প নিয়ে সরকারকে সুপারিশ দেবে কমিশন। সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

দুটি খণ্ডে ভাগ হচ্ছে সনদ

১. প্রশাসনিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য অংশ
২. সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন এমন প্রস্তাব

দুই দফার সংলাপে ৮৪টি সংস্কারের মধ্যে ৭৩টিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে। তবে ১১টি মৌলিক সংস্কারে মতবিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে ৯টিতে বিএনপির আপত্তি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  1. উচ্চকক্ষ গঠন

  2. দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার

  3. সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নতুন কাঠামো

কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৫ সেপ্টেম্বর। তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সনদের চূড়ান্ত খসড়া পাঠানো হবে। সই করবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে দলগুলো।