সরকারের রেশন খাস, গুলি না করলে চাকরি খেয়ে নিব

জাতীয়
সরকারের রেশন খাস, গুলি না করলে চাকরি খেয়ে নিব
নিউজ ডেস্ক
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে আহত চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসানসহ তিনজন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে তাঁরা এই সাক্ষ্য দেন। এ মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

এদিন প্রথমবারের মতো একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিলেন। তিনি হলেন সাবেক এসআই আশরাফুল ইসলাম। অন্য সাক্ষী ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল মাহমুদ।

তিন সাক্ষীই অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে গুলি চালায় পুলিশ। তাঁরা এই ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সাবেক এসআই আশরাফুল ইসলাম তাঁর জবানবন্দিতে জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশে সেদিন সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস এবং শটগান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন করা হয়। তিনি দাবি করেন, এডিসি আক্তারুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশ দেন এবং যারা এই নির্দেশ পালন করতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের হুমকি ও গালিগালাজ করেন।

আশরাফুলের ভাষায়, “আমি গুলি না করায় আমাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়—সরকারের রেশন খাও, গুলি করতে হবে। এরপর কনস্টেবলরা চায়না রাইফেল দিয়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকেন।”

তিনি আরও বলেন, চানখাঁরপুল মোড়ে গুলি চালনার পর আন্দোলনকারীরা গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁদের সহকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় সরিয়ে নেন।

আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এদিন তাঁদের জেরা করেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন আসামিপদের একাধিক ব্যক্তিও।

এ বিষয়ে এখনো সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আজ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।