অগ্রণী ব্যাংকে শেখ হাসিনার আরও দুই লকার জব্দ, এনবিআরের নজরে কর ফাঁকি ও দুর্নীতি তদন্ত

জাতীয়
অগ্রণী ব্যাংকে শেখ হাসিনার আরও দুই লকার জব্দ, এনবিআরের নজরে কর ফাঁকি ও দুর্নীতি তদন্ত
নিউজ ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পূবালী ব্যাংকের পর এবার রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরও দুটি লকারের খোঁজ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা ইউনিট। রাজধানীর মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় অবস্থিত লকার দুটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ (বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর) জব্দ করেছে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।

সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিশেষ সূত্রে পাওয়া তথ্য যাচাই করেই আমরা লকার দুটি জব্দ করেছি। তদন্তের স্বার্থে এগুলো এখন আমাদের হেফাজতে থাকবে।”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, লকার দুটি (নম্বর ৭৫১ ও ৭৫৩) তে রয়েছে স্বর্ণালংকার, আর্থিক দলিল ও সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বা পারিবারিক নথিপত্র। লকারের চাবির নম্বর যথাক্রমে ২০০ ও ১৯৬ বলে নিশ্চিত করেছে সিআইসি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এনবিআরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বৃহৎ দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা লকার দুটি জব্দ করেছি। এগুলো খুলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।”

এর আগে, ১০ সেপ্টেম্বর সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে শেখ হাসিনার আরেকটি লকার (নম্বর ১২৮) জব্দ করে সিআইসি। একই সময় সেখানে শেখ হাসিনার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও শনাক্ত করা হয়। একটিতে ১২ লাখ টাকার এফডিআর এবং অন্যটিতে ৪৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলে জানিয়েছিল এনবিআর। ওই অ্যাকাউন্টদ্বয় থেকে টাকা উত্তোলনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান’-এর পর দেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, লকারগুলোর কনটেন্ট যাচাই-বাছাই এবং আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের পর প্রয়োজনে আরও ব্যাংকে অনুসন্ধান পরিচালনা করা হবে।

এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আইন অনুযায়ী, সকল নাগরিকের কর সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের আওতায় আসতে পারে, বিশেষ করে যদি সেখানে আয়কর ফাঁকি বা অবৈধ লেনদেনের সন্দেহ থাকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিংবা উচ্চপদস্থ কেউ হলেই আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকার সুযোগ নেই।