ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে দায়িত্বশীল, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য: ইইউ

জাতীয়
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে দায়িত্বশীল, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য: ইইউ
নিউজ ডেস্ক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক উপ-কমিটির (DROI) চেয়ারম্যান মৌনির সাতুরি বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় সংসদের নির্বাচন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক সংকটময় মুহূর্ত। সেই নির্বাচনের আয়োজন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে এমনটা নিশ্চিত করতে হবে, এবং নির্বাচনের ফলাফল সকল ধর্ম/দল/গোষ্ঠীর জন্য গ্রহণযোগ্য হবে।

ঢাকায় সফররত ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন—

“এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক পালাবদলের মাধ্যম নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার চূড়ান্ত পরীক্ষাও বটে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাতুরি বলেন,

“নির্বাচনের ফলাফল যেমনই হোক, তা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কারণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাই একটি কার্যকর গণতন্ত্রের ভিত্তি।”

সাতুরি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যখনই কোনো দেশের সঙ্গে পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (PCA) করতে যায়, তখন সেই দেশের মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের অবস্থা খতিয়ে দেখে।

“বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক উত্তরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছে, এই কারণেই এ মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছি,”— বলেন সাতুরি।

সাতুরি বলেন, “২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে প্রক্রিয়াটি এখনো অসম্পূর্ণ।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর নতুন সংসদ এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ইইউ প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় অবস্থানকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে:

নাগরিক সমাজ,ট্রেড ইউনিয়ন,রাজনৈতিক দল,সরকারি কর্মকর্তা,প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস,পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

ইইউ প্রতিনিধি দলের মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য শুধু রাজনৈতিক দিক থেকে নয়, বরং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্যও একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র।

“বাংলাদেশের জনগণের উদ্বেগ, মতামত ও স্বার্থ এই প্রক্রিয়ায় যেন প্রতিফলিত হয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন,”— বলেন সাতুরি।