নিজস্ব অর্থায়নে জাহাজ কিনছে বাংলাদেশ, বাড়বে বৈদেশিক আয়
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) প্রথমবারের মতো নিজস্ব অর্থায়নে দুটি আধুনিক বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কিনছে। চীনে তৈরি, মার্কিন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি থেকে এই জাহাজগুলো কেনা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর হবে আগামীকাল (রোববার), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, “আগামী পাঁচ বছরে আমাদের লক্ষ্য ২২টি জাহাজ সংগ্রহ করা। এর মধ্যে দুটি চুক্তি পর্যায়ে চলে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আয় বাড়বে এই দুই জাহাজ থেকে।”
জাহাজ দুটি আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যে নির্মিত। ইউরোপীয় ও জাপানি যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে জার্মান লাইসেন্সে তৈরি এ জাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশমান পূরণ করে।
জাহাজ দুটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্পেনের পাম্প,নরওয়ের কম্প্রেসার,চীনা হুল নির্মাণ প্রযুক্তি।
দুটি জাহাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৪.৬ শতাংশ কম। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম জাহাজ অক্টোবরে এবং দ্বিতীয়টি ডিসেম্বরে বিএসসির বহরে যুক্ত হবে।
একসময় বিএসসির বহরে ৪৪টি জাহাজ থাকলেও, নব্বইয়ের দশকে সেগুলোর কার্যক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেকগুলো অবসরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ছয়টি নতুন জাহাজ যুক্ত হলেও, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও দুর্ঘটনায় বহরের জাহাজসংখ্যা আবারও কমে পাঁচটিতে নেমে এসেছে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আরও ছয়টি জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের অন্তর্বর্তী সময়েই পাঁচটি জাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান।
নতুন এই জাহাজগুলো যুক্ত হলে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন কেবল আয়ের দিক থেকেই লাভবান হবে না, বরং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাজারে ‘গ্রিন শিপিং নেশন’ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত হবে।


