জয়ের সম্পদ জব্দে যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি পাঠাচ্ছে দুদক

জাতীয়
জয়ের সম্পদ জব্দে যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি পাঠাচ্ছে দুদক
নিউজ ডেস্ক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার প্রাক্তন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্জিত সম্পদ জব্দে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ (MLAR)— এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমিশনের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা।

দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি আদালত সজীব ওয়াজেদের নামে থাকা বাড়ি, গাড়ি ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন। এখন সেই নির্দেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।

দুদকের দাখিল করা নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া রাজ্যে সজীব ওয়াজেদের নামে রয়েছে দুটি বাড়ি।গ্রেট ফলস এলাকার বাড়ির মূল্য ৩৮.৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫ কোটি টাকা),ফলস চার্চ এলাকার বাড়ির মূল্য ৯.৯৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮ কোটি টাকা)।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ৫৩ কোটি টাকার বেশি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, জয় এবং তার সাবেক স্ত্রীর নামে ৮টি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৪৩ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি টাকা।

এছাড়া, জয় ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাব ও ৬টি কোম্পানি শনাক্ত করেছে দুদক। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে গোল্ডেন বেঙ্গল প্রোডাকশন্স এলএলসি, প্রাইম হোল্ডিং এলএলসি, ওয়াজেদ ইন অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনার্স এলএলসি, ব্লু হ্যাভেন ভেঞ্চারস এলএলসি, ট্রুপে টেকনোলজিস এলএলসি। ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে সাতটি এসব কোম্পানির নামে, ৫টি সজীব ওয়াজেদের ব্যক্তিগত, যার মধ্যে একটি যৌথ হিসাবে খোলা হয়েছে তার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে।

এইসব হিসাব ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেন খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

গত ১৪ আগস্ট, সজীব ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ৬০ কোটির বেশি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে আয়করের বাইরে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন এবং তা হুন্ডি ও অন্যান্য অবৈধ পন্থায় বিদেশে পাচার করেন।

দুদক আরও জানিয়েছে, জয়ের আয়কর রিটার্নে বিদেশি আয় গোপন, অননুমোদিত বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং সন্দেহজনক লেনদেনের একাধিক প্রমাণ হাতে এসেছে।

এই পদক্ষেপ এসেছে এমন সময়ে, যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। তার সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানাও। জয় এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, “তদন্ত এখনও চলছে। প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আরও সম্পদ জব্দ করা হবে।”

তিনি বলেন, “বিচার চলাকালে এসব সম্পদের বৈধতা যাচাই ও আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।”

যেহেতু সজীব ওয়াজেদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং তার একাধিক ব্যবসা ও স্থায়ী সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত—তাই এই এমএলএআর পাঠানো বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে যাচ্ছে।