গোপন বৈঠকে নর্ডিক তিন রাষ্ট্রদূত ও সাবের হোসেন চৌধুরী

জাতীয়
গোপন বৈঠকে নর্ডিক তিন রাষ্ট্রদূত ও সাবের হোসেন চৌধুরী

সাবের হোসেন চৌধুরী (উপরে বাঁয়ে), রাষ্ট্রদূত হ্যাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন ((উপরে ডানে), রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস (নিচে বাঁয়ে) ও রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মলার (নিচে ডানে)। ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা টানাপড়েন ও অস্থিরতা বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময়েই গোপনে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী এবং ঢাকায় নিযুক্ত নর্ডিক অঞ্চলের তিন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রদূত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে গুলশান-২-এর একটি বাড়িতে অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে অংশ নেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন গুলব্রানসেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান মলার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এটি হতে পারে একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা। বিশেষ করে যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল—ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দলটি নিষিদ্ধ অবস্থায় থেকেও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহায়তা। কূটনীতিকরা জানতে চান, দলটি পুনরায় কীভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে।

তাদের মতে, আওয়ামী লীগের ভেতরকার কিছু গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে আনলে তা নির্বাচনের জন্য একটি “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

সাধারণত কূটনৈতিক বৈঠক কূটনৈতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই হয়ে থাকে। কিন্তু সোমবারের বৈঠকে ছিল ভিন্ন চিত্র। তিন রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন একটিমাত্র গাড়িতে, বহন করেননি নিজ নিজ দেশের পতাকা কিংবা কূটনৈতিক সনদপত্র। বৈঠকের পর বের হন বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকের এমন গোপনীয়তা এই বার্তাই দেয় যে আলোচ্য বিষয় ছিল অতি স্পর্শকাতর ও কৌশলগত গুরুত্বের।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দলটি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও আন্তর্জাতিক মহলে তাদের নিয়ে আগ্রহ থেমে নেই। সাবের হোসেন চৌধুরী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও জলবায়ু কূটনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, এখনও আন্তর্জাতিক মহলে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে বিবেচিত।

তিনি এর আগে গত ১১ মে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন। তখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক—এই তিন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার। জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং সুশাসনের প্রশ্নে এদের অবস্থান বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই তাদের এই কৌশলগত যোগাযোগ—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—আওয়ামী লীগ কি পুনরায় সংগঠিত হয়ে রাজনীতির মাঠে ফিরতে চায়? আর আন্তর্জাতিক মহল কি সেই পথকে নীরবে প্রশস্ত করছে?

যদিও সাবের হোসেন চৌধুরীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি, তবে এই বৈঠকের সময় ও কৌশল বলছে—রাজনীতির পেছনের পর্দায় অনেক কিছুই চলছে, যার চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী নির্বাচনের আগে প্রকাশ পেতে পারে।