গণভোটে দুটি প্রশ্ন রাখার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের, সাংবিধানিক আদেশে আয়োজনের পরামর্শ

জাতীয়
গণভোটে দুটি প্রশ্ন রাখার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের, সাংবিধানিক আদেশে আয়োজনের পরামর্শ
নিউজ ডেস্ক
৮ অক্টোবর ২০২৫

সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে ‘অধ্যাদেশ’ নয়, সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে ঐকমত্য কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল। একই সঙ্গে, বিতর্ক এড়াতে ব্যালটে দুটি পৃথক প্রশ্ন রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা—একটি থাকবে সব দলের ঐকমত্য পাওয়া সংস্কার নিয়ে, অপরটি থাকবে যেসব সংস্কারে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, তা নিয়ে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠকে এসব পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন, আর কমিশনের সদস্যরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন বলে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুটি প্রশ্নের মাধ্যমে জনমত নেওয়া হলে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির সুযোগ কমে যাবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

  • প্রথম প্রশ্ন: জনগণ ঐকমত্য পাওয়া সংস্কারগুলো অনুমোদন করে কিনা।

  • দ্বিতীয় প্রশ্ন: নোট অব ডিসেন্ট থাকা সংস্কারগুলো গ্রহণযোগ্য কি না।

এভাবে ভোট হলে, যেসব প্রস্তাবে জনমত থাকবে, তা ভবিষ্যতে সংবিধানের অংশ হবে। আর নোট অব ডিসেন্ট টিকবে না।

ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত ৮৪টি সাংবিধানিক সংস্কারের মধ্যে ৭৩টিতে সব দল একমত, বাকিগুলোর ওপর মতভেদ রয়েছে।
বিএনপি ৯টি সংস্কারে আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন,প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা নিষিদ্ধ,রাষ্ট্রপতির হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষমতা,দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত কমিটি।

বিএনপির অবস্থান, তারা নির্বাচনে জয়ী হলে আপত্তিকৃত সংস্কার বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

অন্যদিকে, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল বলছে, পুরো জুলাই সনদকে একটি প্যাকেজ হিসেবেই গণভোটে তোলা হোক, এবং জনসমর্থন পেলে পরবর্তী সংসদ বাধ্য থাকবে সব সংস্কার কার্যকর করতে।

বিএনপি চায়, গণভোট হোক নির্বাচনের দিন, অধ্যাদেশ জারি করে।
জামায়াত চায়, আগে সাংবিধানিক আদেশে জুলাই সনদ কার্যকর, তারপর গণভোট।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভোট টেকসই হবে না। সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ দিয়ে এত বড় সাংবিধানিক সংস্কার সম্ভব নয়, কারণ তা পরবর্তী সংসদের অনুমোদন ছাড়া টিকে না।

একজন বিশেষজ্ঞ বলেন,

“জুলাই সনদে অন্তত ৩৩টি সংবিধান পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে। এগুলো অধ্যাদেশে সম্ভব নয়, সংবিধান সমতুল্য আদেশ দরকার।”

কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন,

“আজ (বুধবার) সকালে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক হবে, দুপুরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ। আশা করছি, আজই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।”