শান্তিরক্ষা মিশন থেকে দেশে ফিরছেন ১৮০ পুলিশ, দেশের জন্য ‘বড় ধাক্কা’

জাতীয়
শান্তিরক্ষা মিশন থেকে দেশে ফিরছেন ১৮০ পুলিশ, দেশের জন্য ‘বড় ধাক্কা’
নিউজ ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৫

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গৌরবময় ভূমিকার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র কনটিনজেন্ট প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে জাতিসংঘ। এতে পুলিশের অভ্যন্তরীণ মহলে গভীর উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যাদের পুরো কনটিনজেন্ট প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ক্যামেরুন, সেনেগাল ও মিশরের মতো দেশগুলোর সদস্যসংখ্যা আংশিকভাবে কমানো হবে।

১৮০ সদস্যের এই ইউনিটে ৭০ জন নারী পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তারা আগামী নভেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। মাত্র এক মাস আগেই তারা মিশনে যোগ দিয়েছিলেন। এই ইউনিটের নেতৃত্বে আছেন পুলিশ সুপার জান্নাত আফরোজ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সদস্য সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণ জাতিসংঘের বাজেট সংকোচন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করছেন, সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

একজন কর্মকর্তা বলেন,

“তিন দশকের বেশি সময় ধরে এই ইউনিট দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। এটি বন্ধ হয়ে গেলে তা হবে একটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন,

“জাতিসংঘের তহবিল সংকটের বিষয়টি আগেই বোঝা সম্ভব ছিল। এখনো সময় আছে—জোরালো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও পরিবর্তন করা সম্ভব।”

পুলিশ সুপার জান্নাত আফরোজ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন,

“ছয় মাস ট্রেনিং করে মাত্র দেড় মাস ডিউটির পর ফিরে যেতে হচ্ছে—কষ্টের তো বটেই। তবে আমি আশাবাদী, আমরা সবাই সম্মানের সঙ্গেই ফিরে যাবো।”

তিনি আরও বলেন,

“কাল থেকে ক্যাম্প বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হবে। ১৭ বছরের যত মালামাল আছে সব গুছিয়ে ফেরত পাঠাতে হবে। সবাই একসঙ্গে এসেছিলাম, একসঙ্গেই যাবো।”

বাংলাদেশ ১৯৮৯ সালে নামিবিয়ায় প্রথম শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয়।
এখন পর্যন্ত ২১,৮০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য জাতিসংঘ মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন শহীদ হয়েছেন, যারা জাতির গর্ব হয়ে আছেন।