জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলায় ক্ষুব্ধ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সনদ স্বাক্ষরকে বললো ‘প্রতারণা’
‘জুলাই সনদের’ আইনি স্বীকৃতি ও পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত যোদ্ধাদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটি একে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
শুক্রবার সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আয়োজনে সনদ স্বাক্ষরের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা’ ব্যানারে আন্দোলনরত কর্মীদের উপর নির্মম হামলা হয়েছে। এতে জুলাই যোদ্ধা আতিকুল গাজীসহ অন্তত ২৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ ও আহত হন। সেই রক্তের ঋণেই এসেছে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দলিল ‘জুলাই সনদ’। অথচ সেই যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়ে এবং তাদের বাদ দিয়ে সনদ স্বাক্ষর করা হয়েছে—এটি চরম আত্মঘাতী ও প্রতারণামূলক সিদ্ধান্ত।”
তারা আরও বলেন, “যারা সনদ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, তাদের বাদ দিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলকে নিয়ে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এতে ‘জাতীয় ঐক্য’র ভাবমূর্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শুধু হামলাই নয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক সদস্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত যোদ্ধাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, “এটি অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলছে, “শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা, ছাত্র প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের যুক্ত করে ‘জুলাই সনদের’ আইনি বৈধতা ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সংক্রান্ত সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান অবিলম্বে বের করতে হবে।”
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা স্বাক্ষর করেন।
তবে এই আয়োজন ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে, বিশেষ করে অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায়।


