ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাতিল নিয়ে বিভ্রান্তি, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘তালিকা সঠিক নয়’

জাতীয়
ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাতিল নিয়ে বিভ্রান্তি, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘তালিকা সঠিক নয়’
নিউজ ডেস্ক
২১ অক্টোবর ২০২৫

ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি ও প্রকল্প বাতিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি তালিকাকে ‘আংশিক সত্য’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “যে তালিকাটি ফেসবুকে এসেছে, তা সঠিক নয়। কেবল একটি ছাড়া বাকি তথ্যগুলো ভুল বা বিভ্রান্তিকর। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব এ নিয়ে মন্তব্য না করলেও পারতেন।”

এর আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং কয়েকটি পুনর্বিবেচনার আওতায় রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে সেই দাবির অনেকটাই ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়:

  • ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ ও অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ নামে কোনো প্রকল্প নেই।

  • আশুগঞ্জ-আগরতলা করিডোর নামে প্রকল্প নেই, তবে “আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-আখাউড়া মহাসড়ক চার লেন উন্নয়ন” প্রকল্পের একটি প্যাকেজ বাতিল হয়েছে।

  • ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা ও কুশিয়ারা নদী পানি বণ্টন প্রকল্প নামে কিছু নেই, এগুলো ছিল সমঝোতা স্মারক, যা বাতিল বা স্থগিত হয়নি।

  • বন্দরের ব্যবহারসংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি নেই, তবে মোংলা বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত একটি চুক্তি রয়েছে, তা বাতিল হয়নি।

  • ফারাক্কা বাঁধে বাংলাদেশের অর্থায়ন প্রস্তাব সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প নেই।

  • সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প, পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি—এগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।

  • ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (মিরসরাই ও মোংলা) এখনও বাতিল হয়নি, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি—পুনর্বিবেচনার আওতায় আলোচনা চলছে।

  • গঙ্গা পানি চুক্তি আগামী বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে, নবায়নের বিষয়ে আলাপ চলছে।

  • তিস্তা পানি চুক্তি এখনো আলোচনার পর্যায়ে।

  • জিআরএসই-এর সঙ্গে টাগ বোট চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের পক্ষে লাভজনক নয় বলেই বাতিল করা হয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “ভারতের সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তি সই বা বাতিল হলে, তা সরকারিভাবে জানানো হবে। বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি অনুরোধ জানাই।”

গত ১৯ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের সময়ে সম্পাদিত ১০টি চুক্তি বাতিল হয়েছে। পোস্টে তিনি একটি তালিকাও প্রকাশ করেন, যেখানে চুক্তি ও প্রকল্পগুলোর বাতিল ও পুনর্বিবেচনার বিষয় উল্লেখ করা হয়।