প্রধান উপদেষ্টা ডাকলে বৈঠকে রাজি তিন দল
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার যে সময়সীমা অন্তর্বর্তী সরকার এক সপ্তাহ আগে নির্ধারণ করেছিল, তা আজ শেষ হচ্ছে। কিন্তু শেষ সময় পর্যন্ত দলগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতার আভাস মিলছে না।
সরকারের আহ্বানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। জামায়াত বলছে, তারা বিএনপিকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।
এনসিপি নেতৃত্বাধীন নয়দলীয় জোট দুই দলের মধ্যস্থতা করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এখন সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সূত্র জানায়, তাদের সামনে দুটি পথ খোলা—এক, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা; দুই, আলোচনা ছাড়াই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “দলগুলো যদি সময়মতো সিদ্ধান্তে না আসে, সরকার দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমরা এখনো আশাবাদী—শেষ মুহূর্তে হলেও সমঝোতা হতে পারে।”
২৫টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ গত ২৮ অক্টোবর সরকারের কাছে জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়, সরকার একটি ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করবে, যার ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু গণভোটের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে দলের মধ্যে মতভেদ প্রকট।
বিএনপি চায়—গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হোক এবং সনদের প্রস্তাবে দলগুলোর দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ থাকুক। অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, গণভোট নির্বাচন-পূর্বেই হতে হবে এবং সেখানে কোনো ভিন্নমত থাকবে না।
বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এনসিপি ও তাদের সহযোগী আট দল উদ্যোগ নিলেও কোনো ফল মেলেনি। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “আমরা বিএনপিকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। এখন সরকারেরই দায়িত্ব নিতে হবে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “জুলাই সনদে যেভাবে ঐকমত্য হয়েছিল, সেটি ভাঙা হচ্ছে। জনগণের মতামত ছাড়া কোনো নতুন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।”
সরকারি সূত্র বলছে, কমিশনের সুপারিশ বিশ্লেষণ করে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হতে পারে। তবে সনদের ২৭০ দিনের বাস্তবায়ন সময়সীমা তুলে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক পরিপক্বতার ওপর। দলগুলোর এখনই সংলাপে বসা জরুরি।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম শাহনওয়াজ বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে না গিয়ে সরকার যদি জোর করে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি হতে পারে আত্মঘাতী পদক্ষেপ।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই গণভোটের পক্ষে থাকলেও সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে অবস্থান বিপরীত। দুই দলের এই বিরোধিতার মধ্যেই সরকার দ্রুত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর


