ভূমিকম্পে ৩ জেলায় নিহত ৭
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুভূত ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া এই কম্পন প্রায় ২০-২৫ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল, যা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে পুরান ঢাকায় ভবনের রেলিং ধসে তিনজন, নারায়ণগঞ্জে দুইজন এবং উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। অনেক ভবনে ফাটল দেখা গেছে এবং বহু মানুষ ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন।
পুরান ঢাকার বংশালে একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে চাপা পড়ে পথচারী তিনজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন—ঘটনার সময় ভবনটি প্রচণ্ড দুলছিল, ঠিক তখনই রেলিং ভেঙে নিচে থাকা তিনজনের ওপর পড়ে।
নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহগুলো মিটফোর্ড হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলায় ভূমিকম্পে একটি বাড়ির দেয়াল ধসে ঘটনাস্থলেই এক নারীর মৃত্যু হয়; আহত হন তাঁর মেয়ে। একই এলাকায় টিনসেড বাড়ির দেয়াল ধসে প্রাণ হারায় এক বছরের শিশু ফাতেমা। আহত হয়েছেন শিশুটির মা ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম। প্রশাসন ধারণা করছে, এলাকায় আরও বেশ কিছু টিনশেড ও কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মাধবদীর কাছাকাছি সদর উপজেলার গাবতলীতে বাড়ির সানসেট ভেঙে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা দেলোয়ার হোসেন।
পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির দেয়াল চাপা পড়ে নিহত হন কাজম আলী (৭৫)। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে কমপক্ষে ৫৫ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভবনে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া, সিঁড়ি ও জানালায় ক্ষতির খবর পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। জরুরি উদ্ধার দলগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
সরকার নাগরিকদের গুজবে কান না দিতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।


