১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অবিক্রিত সব মোবাইল তালিকাভুক্তির নির্দেশ

জাতীয়
১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অবিক্রিত সব মোবাইল তালিকাভুক্তির নির্দেশ
নিউজ ডেস্ক
৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের বাজারে বিদ্যমান অবিক্রিত সব মোবাইল হ্যান্ডসেটকে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়মিত তালিকাভুক্ত করতে মোবাইল ব্যবসায়ীদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। মোবাইল আমদানি ও ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সহজীকরণ নিয়ে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিটিআরসি ও মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠক শেষে বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মোবাইল আমদানি-সংক্রান্ত বর্তমান জটিলতা কমাতে কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয়ের উদ্বেগ দূর করতে সহায়ক হবে।

বিটিআরসির সিদ্ধান্তসমূহ

1. ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সহজ করা
ন্যূনতম কাগজপত্রের ভিত্তিতে দ্রুত ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সনদ প্রদান করা হবে। ক্লোন, রিফারবিশড বা অবৈধ সেট ঠেকাতে চুক্তিপত্রের বদলে মূল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা অনুমোদিত বিতরণকারীর প্রত্যয়নপত্রই যথেষ্ট হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

  1. আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণে প্রস্তাব চাইলো বিটিআরসি
    অবৈধ ফোন প্রবেশ বন্ধ রেখে আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে এমবিসিবির কাছ থেকে স্পষ্ট লিখিত প্রস্তাব চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

  2. ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবিক্রিত সেট নিবন্ধন করার সুযোগ
    ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী বাজারে থাকা সব অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের তথ্য নির্ধারিত ফরমে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিলে এসব হ্যান্ডসেট নিয়মিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিটিআরসি আরও জানায়, বৈধভাবে মোবাইল আমদানি করা হলে ‘বেতার যন্ত্রপাতি ব্যবহার, বাজারজাতকরণ ও তালিকা গ্রহণ নির্দেশিকা ২০২৪’-এর আওতায় সব প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বিটিআরসি ও এমবিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ লাখ অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট বাজারে রয়েছে। এই অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণেই এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার।

গত ২৯ অক্টোবর বিটিআরসিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছিলেন, এনইআইআর চালু হলে নকল ও অবৈধ মোবাইল বাজার থেকে পুরোপুরি উধাও হবে এবং সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি বন্ধ হবে।

এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্তে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে রবিবার বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান করে ব্যবসায়ীরা। এতে আগারগাঁও এলাকায় যানজটও সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে সোমবার মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, বাজারে বৈধভাবে কাজ করা ১৮টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে এনইআইআর চালু অপরিহার্য।

এমবিসিবির সঙ্গে আলোচনার পরও পূর্ণ সমাধান না আসায় মোবাইল ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা কাটেনি। বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধানের চেষ্টা হবে বলে জানা গেছে।