ভারতকে বাদ দিয়ে ইন্টারনেটের বিকল্প ব্যবস্থা করল বাংলাদেশ

জাতীয়
ভারতকে বাদ দিয়ে ইন্টারনেটের বিকল্প ব্যবস্থা করল বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট চাহিদা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমাতে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ আমদানি ও সাবমেরিন কেবল সংযোগে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোগে দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের প্রায় অর্ধেক বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি সাবমেরিন কেবল দ্বারা পূরণ হচ্ছে। বাকি অংশ ভারতের স্থলভিত্তিক সংযোগের মাধ্যমে আমদানি করতে হয়, যা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।

এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন কেবল স্থাপন ও পরিচালনার লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করলে বছরে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রযুক্তিবিদরা জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিদ্যমান রাষ্ট্রায়ত্ত কেবলের ক্ষমতা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ার কারণে বড় ধরনের ব্যান্ডউইথ সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালে তৃতীয় সাবমেরিন কেবল ‘এসএমডব্লিউ-৬’ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই দুই বছর সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আনা হয়েছে।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি বা ২০২৪ সালের শুরুতেই সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা চালু হবে। পাশাপাশি ভারত ছাড়াও জাপান ও সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একাধিক আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা মনে করছেন, শুধু আন্তর্জাতিক সংযোগ নয়, দেশের ভেতরে ব্যান্ডউইথ বিতরণ ও গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, “টেকসই ইন্টারনেট ব্যবস্থার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রথমবার আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয় ২০০৬ সালে।