হাদির মৃত্যুকে ঘিরে রাজধানীতে থমথমে পরিস্থিতি, নিরাপত্তা জোরদার

জাতীয়
হাদির মৃত্যুকে ঘিরে রাজধানীতে থমথমে পরিস্থিতি, নিরাপত্তা জোরদার
নিউজ ডেস্ক
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার জেরে ঢাকাজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ফার্মগেটে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার, কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো এবং ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ছায়ানট ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কিংবা শাহবাগ এলাকায় নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ছায়ানট ভবনের সামনে দায়িত্বে থাকা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান জানান, সকাল থেকেই তারা সেখানে অবস্থান করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

শুক্রবার দুপুরে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম হামলার শিকার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে একদল বিক্ষোভকারী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটির বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে ঘটনাস্থলে গেলে নিউ এইজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি নূরুল কবীর বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের হাতে নাজেহাল হন। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

একই রাতে ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনেও ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি।

প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। দেশে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গত সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।