গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল

জাতীয়
গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল
নিউজ ডেস্ক
১০ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার দাবি করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেই কথা বলতে পারেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে কার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং হয়েছে—আমার বিরুদ্ধে। প্রথম চার মাসেই আমাকে টার্গেট করে চারটি ডেডিকেটেড ভিডিও বানানো হয়েছে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক সময় তাকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছে, আবার রাতারাতি ভারতের দালাল বানানো হয়েছে। এমনকি তার আমেরিকায় বাড়ি রয়েছে ও পরিবার সেখানে চলে গেছে—এমন তথ্যও ছড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও কেউ এসব অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেনি বলে জানান তিনি।

জুলাইয়ের ঘটনাসংক্রান্ত মামলাগুলোর জামিন নিয়ে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, এসব মামলায় প্রায় ৯০ শতাংশ জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে তা বিচারকদের দায়, আইন মন্ত্রণালয়ের নয়। তিনি বলেন, হাইকোর্টের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির অধীন এবং এখানে আইন উপদেষ্টার কিছু করার সুযোগ নেই।

হাইকোর্টের দেওয়া সব জামিনের দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে প্রকৃত দায়ীদের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান ড. আসিফ নজরুল।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে টার্গেট করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তার নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালালে ভিউ বাড়ে, মনিটাইজেশন হয় এবং এর পেছনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা কাজ করছে।

সবশেষে আত্মসমালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সবাইকে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আত্মসমালোচনার চর্চা বাড়াতে হবে। তাহলেই ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের পথে এগোনো সম্ভব হবে।