নির্বাচনে মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য, ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা

জাতীয়
নির্বাচনে মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য, ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা
নিউজ ডেস্ক
১৯ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা হবে সিসিটিভি ক্যামেরা। একই সঙ্গে নির্বাচনে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিভিন্ন বাহিনী থেকে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন (স্থলভাগে ১ হাজার ২৫০), পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন সদস্য থাকবেন। এছাড়া বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও মোতায়েন থাকবেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার নতুন সংযোজন হিসেবে ব্যবহার করা হবে ৪১৮টি ড্রোন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর এসব ড্রোন সমন্বিতভাবে নজরদারিতে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াডও মাঠে থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এনটিএমসি কর্তৃক প্রস্তুত এই অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম একসঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং তাৎক্ষণিক অভিযোগের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, দুর্গম এলাকায় ব্যালট ও নির্বাচনি মালামাল পরিবহনে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী চার দিন এবং ভোটকালীন সময়ে নিবিড় টহল জোরদার করা হবে, বিশেষ করে চর ও দুর্গম এলাকায়।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে দেশজুড়ে দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, মোবাইল টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পরিচালনা রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।