শতকোটি টাকার অপচয়, পুলিশে ফিরছে আগের পোশাক!

জাতীয়
শতকোটি টাকার অপচয়, পুলিশে ফিরছে আগের পোশাক!
নিউজ ডেস্ক
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বিতর্কিত ভূমিকার প্রেক্ষাপটে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে নতুন সরকারের আমলে আবারও পুরোনো পোশাকে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশ রূপান্তর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের পোশাককে ঘিরে জনমনে নেতিবাচক ধারণা থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার নতুন ইউনিফর্ম চালু করেছিল। কিন্তু রঙ, মান ও নকশা নিয়ে শুরু থেকেই বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সীমিত কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা ও পুলিশের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে তড়িঘড়ি করে নতুন পোশাক বাস্তবায়ন করা হয়। এতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, পোশাক কেনাকাটায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। সরকার পরিবর্তন হলেও সেই প্রভাব পুরোপুরি কমেনি। বিষয়টি নিয়ে নতুন সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে আগের ইউনিফর্মে ফেরার নির্দেশনা এসেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের খাকি পোশাকই পুলিশের ঐতিহ্যের অংশ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, পূর্বের ইউনিফর্ম নির্ধারণে দেশের আবহাওয়া, দৃশ্যমানতা ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে মহানগর পুলিশ সদস্যরা লৌহ রঙের নতুন ইউনিফর্ম পরা শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে জেলা পুলিশেও তা চালু হয়। তবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন)-এর ইউনিফর্ম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ বলেন, শুধু পোশাক পরিবর্তন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না; প্রয়োজন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের উন্নয়ন। বিশেষজ্ঞদেরও মত, বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে কাঠামোগত সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের চেয়ে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।