বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না: প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
৩০ এপ্রিল ২০২৬

বিভিন্ন ধর্মের মূল শিক্ষা মানবকল্যাণে নিবেদিত—এ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান বলেছেন, সব ধর্মই মানুষকে নৈতিকতা, সংযম ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য যে পঞ্চশীল নীতি দিয়েছেন—প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যাচার ও মাদক থেকে বিরত থাকা—তা কেবল বৌদ্ধদের জন্য নয়, বরং সব মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ জীবনদর্শন। তিনি আরও বলেন, প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়ার শিক্ষা একটি মানবিক সমাজ গঠনে অপরিহার্য।

তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের পাশাপাশি নাগরিকরা নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চললে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা সরকারের অঙ্গীকার, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন এবং সমান অধিকার ভোগ করবেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই- ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১-এর চেতনা ছিল সাম্য, মানবিকতা ও সহাবস্থানের। সেই চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে দেশ স্বাধীন করেছে। তাই এই দেশ সবার—কোনো বিভাজনের নয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এ দর্শনই দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। তিনি সবাইকে নিজেদের “সংখ্যালঘু” না ভেবে সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আত্মপরিচয় গ্রহণের আহ্বান জানান।