স্থানীয় সরকারের রাস্তায় দুর্ঘটনার দায়ও আমাকে নিতে হয়: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অনেক সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সড়কের দায়ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়কে নিতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা কম হলেও সামগ্রিক দুর্ঘটনার হিসাব নিয়ে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয় তার মন্ত্রণালয়কে।
সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা ছিল ৫ হাজারের বেশি।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
তিনি বলেন, গত ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ১১ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ৪৩ জন, বাকিরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নিয়ন্ত্রিত সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “রাস্তা যেই নির্মাণ করুক, দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যম শেষ পর্যন্ত সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছেই জবাব চায়।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত নয়। বিভিন্ন ছোট সড়ক সরাসরি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচল এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত ছোট সড়কগুলোকে নিরাপদভাবে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মহাসড়কে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিরুৎসাহিত করতেও কাজ চলছে।
ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ফেরিতে যানবাহন ওঠানামায় নতুন ব্যারিকেড ব্যবস্থা, যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার এবং সদরঘাট এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারির কথাও জানান মন্ত্রী।
এছাড়া তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সব কারখানায় এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ঈদ উপলক্ষে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

