সংসদ ভবন থেকে উধাও ১৩৪৩ কপার বার
জাতীয় সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকে ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার উধাও হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ সংরক্ষণ নিয়ে। প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের এসব কপার বাসবার কোথায় গেল, তার সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় ৭১ কোটি টাকার একটি সাব-স্টেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো কপার বার পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র স্টোরে জমা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে উল্লেখযোগ্য অংশের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিপত্রে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। একই প্রকল্পের জন্য পৃথক সময়ে দুটি সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করা হলেও রিপোর্টগুলোর তথ্য, সরঞ্জামের পরিমাণ ও মূল্যমানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো নথিতে তারিখ বা স্বাক্ষরেরও ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
জানা গেছে, সংসদ ভবনের নবম তলায় অবস্থিত চারটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের উন্নয়নকাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কাজ শেষে পুরোনো ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্টোর পরিদর্শনের সময় এসব সরঞ্জামের অধিকাংশই অনুপস্থিত পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে দায়-দায়িত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং উপসহকারী প্রকৌশলীর কেউই সরাসরি দায় স্বীকার করছেন না। এরই মধ্যে উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, স্টোরে কী পরিমাণ মালপত্র ছিল বা প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা কী—তা কখনোই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, গত ২৫ মার্চ গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি সংসদ ভবন থেকে কপার বাসবার উধাও হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এডেক্স করপোরেশন লিমিটেডের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, কাজ প্রায় সম্পন্ন হলেও তাদের প্রাপ্য বিলের একটি অংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কম পরিশোধ করা হয়েছে।
এদিকে সংসদ ভবনের মতো উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ কপার বাসবার কীভাবে গায়েব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি কেবল চুরির ঘটনা, নাকি প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে বৃহত্তর কোনো আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে—তা খতিয়ে দেখতে জোরালো তদন্তের দাবি উঠেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালিকুজ্জামান চৌধুরী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে জানান।

