শান্তিরক্ষীদের গৌরবময় অর্জন সমুন্নত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা, ১০ জুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যে গৌরব অর্জন করেছেন, তা রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য। দেশের এই আন্তর্জাতিক সুনাম কোনোভাবেই ম্লান হতে দেওয়া যাবে না।
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জ-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা এবং দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনা সদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মিশনে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও সম্মানিত করেন তিনি।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৯টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন এবং হাইতি-তে নতুন একটি মিশনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
শান্তিরক্ষা মিশনে নারীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য জাতিসংঘ মিশনে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদান ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বাহিনীর শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির সংকটময় পরিস্থিতির মতো যেকোনো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যযুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহাবস্থানের প্রতি বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকার অটুট রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও জাতিসংঘের প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

