বন্যায় দেশে ৫৬ জনের মৃত্যু, ১০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে
টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খোলা ৩২৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ১০ হাজার ৮৫৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা। প্রতিবেদনে বন্যাকবলিত উপজেলার সংখ্যা নিয়ে কিছু অসামঞ্জস্যও রয়েছে। সারসংক্ষেপে ৫৯টি উপজেলার কথা বলা হলেও জেলা-ভিত্তিক হিসাবে মোট ৫৭টি উপজেলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি কক্সবাজারে। সেখানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া ২৪ জন আহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। চট্টগ্রামে মারা গেছেন ১৫ জন, আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ছয়জন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন খাগড়াছড়িতে একজন ও বান্দরবানে দুজন।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ অবস্থান করছেন রাঙামাটিতে, যেখানে ৪০টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৩ হাজার ১৫৮ জন। চট্টগ্রামের ৭০টি কেন্দ্রে রয়েছেন ৩ হাজার ১৪০ জন এবং বান্দরবানের ৫৪টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৮৪ জন। মৌলভীবাজারের ১০টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১ হাজার ৭৪৫ জন। এছাড়া খাগড়াছড়ির তিনটি কেন্দ্রে ৩৪ জন এবং কক্সবাজারের তিনটি কেন্দ্রে ১৯৩ জন অবস্থান করছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু থাকলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌরসভাও বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্গত মানুষের সহায়তায় ৭ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে চট্টগ্রাম—৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল।
এ ছাড়া সারাদেশের ৬৪ জেলার জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

