বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয়
বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১৫ জুলাই ২০২৬

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সরকারি দলের সদস্য শিরীন সুলতানার বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আলোচনায় শিরীন সুলতানা বলেন, দেশে অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। পাশাপাশি অধিকাংশ রোগী নির্ধারিত কোর্স সম্পূর্ণ না করায় জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয় না এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এর ফলে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে এবং সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ পরিস্থিতিতে বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও নকল ওষুধের বিরুদ্ধে দেশে প্রয়োজনীয় আইন বিদ্যমান রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী আট থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে।

তিনি জানান, নকল ওষুধ বিক্রি রোধে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও শহরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট নিয়মিত ওষুধের দোকানে অভিযান পরিচালনা করছে। নকল ওষুধ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ডিসপেনসারি বা ফার্মেসি অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করতে পারবে না। এ বিধান বাস্তবায়নে চলমান তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, জনস্বার্থে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নকল ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।