চীনা ঋণেই হচ্ছে আখাউড়া-সিলেট ডুয়েলগেজ লাইন

জাতীয়
চীনা ঋণেই হচ্ছে আখাউড়া-সিলেট ডুয়েলগেজ লাইন
২০ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ এক দশকের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে চীনের অর্থায়নে আবারও এগোচ্ছে আখাউড়া-সিলেট রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের প্রকল্প। প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণ দিতে সম্মত হওয়ায় প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চীন সরকারের অর্থায়নে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে গত ২১ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর-কষাকষির (নেগোসিয়েশন) সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সম্প্রতি ঢাকায় চীনা দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কাউন্সেলরের কাছে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠিয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ২৩৯ দশমিক ১৪ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইন ডুয়েলগেজে উন্নীত করা হবে। এর মধ্যে ১৭৬ দশমিক ২৪ কিলোমিটার মূল লাইন এবং ৬২ দশমিক ৯০ কিলোমিটার লুপ লাইন রয়েছে। নতুন রেলপথে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

‘আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বা ১২৭ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ হিসেবে চীনের কাছে চাওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শেখ সাকিল উদ্দিন আহমদ বলেন, অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি একসময় এডিপি থেকে বাদ পড়েছিল। তবে চীনের অর্থায়নের নিশ্চয়তা পাওয়ায় এটি আবারও এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একনেকে অনুমোদনের পর ঋণের চূড়ান্ত শর্ত নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন) মামুনুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি প্রথম থেকেই চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। মাঝপথে নানা কারণে তা আটকে যায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর প্রকল্পটি নতুন গতি পেয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে প্রথম প্রকল্পটি আলোচনায় আসে। পরে ভারতও অর্থায়নের আগ্রহ দেখালেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপি থেকে প্রকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে অতীতে পরিকল্পনা কমিশন আপত্তি তুলেছিল। কমিশনের মতে, কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় সমজাতীয় অন্যান্য রেল প্রকল্পের তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া সরাসরি একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

এসব বিষয় পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।