আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ঘোষণা

জাতীয়
আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ঘোষণা
৩০ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে। পুরো নিয়োগ ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালু করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে একাধিক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আলোচনায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের প্রভাব কমিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে বোয়েসেলের মাধ্যমে কম খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যাওয়া শুরু করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমবাজারকে পুরোপুরি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বদ্ধপরিকর। সাধারণ কর্মীরা যেন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরিতেও দুই দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন আরও জানান, চলমান আলোচনা শুধু নতুন কর্মী পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, শ্রম অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যোগ্য কর্মীরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তারা অযৌক্তিক অভিবাসন ব্যয় ও দালালচক্রের হয়রানি থেকে সুরক্ষা পাবেন।

সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর ফলে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহদী আমিন জানান, কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কর্মীবান্ধব নীতি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।