মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয়
মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৩০ জুলাই ২০২৬

মানবপাচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্রাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিনালিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন দিন দিন পরিবর্তিত ও জটিল হচ্ছে। অপরাধী চক্রগুলো এখন শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ সাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও তরুণ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের ফাঁদে ফেলছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, আকর্ষণীয় চাকরি ও উন্নত ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অনেককে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে। পরে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে নির্যাতন, ভয়ভীতি এবং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

নতুন আইনে আধুনিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন (ইউএনটিওসি) এবং সংশ্লিষ্ট প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণীত এ আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রলোভন এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এ ছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ চূড়ান্ত করছে। এ কর্মপরিকল্পনায় প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, অপরাধীদের বিচার এবং বিভিন্ন অংশীজনের অংশীদারত্ব—এই চারটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসনে উদ্যোগ

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম’ বা এনআরএম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি, শারীরিক, মানসিক এবং পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হবে।

তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং মানবপাচারসংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরির কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

তরুণ সমাজ, নারী ও বিদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া নিয়োগ চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ও জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ড. লরা টম বোন্ডে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।