শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের বিবৃতি
হানাফি মাজহাব বিরোধী লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত পরিহার করুন
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাব্য সংবাদে দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামা, কওমি অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ ও পীর-মাশায়েখদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হানাফি মাজহাব বিরোধী এবং তাবলীগ জামাতকে কটাক্ষকারী সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনায় দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ওলামায়ে কেরাম গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) একযুক্ত বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, আহলে হাদিসের বিভিন্ন সেমিনার ও মাহফিলে ফেসবুক ও ইউটিউবে বিদ্যমান ভিডিওতে তার বক্তব্যে হানাফি মাজহাব, দেওবন্দি আলেমসমাজ, তাবলিগ জামাত ও পীর-মুরিদি বিষয়ে কটুক্তি, কটাক্ষ ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে।
ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, মন্ত্রীসভায় নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার হলেও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জায়গায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভ‚তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা খুবই প্রয়োজন।
এমপি শামীম কায়সার লিংকন আহলে হাদিস মতাদর্শের একজন পরিচিত ব্যক্তি। বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, তার বক্তব্যে মাজহাব অনুসরণ না করা, দোয়ার সময় হাত না তোলা এবং মাজহাবের আলেমদের গ্রন্থ ও মতামত নিয়ে কট‚ক্তি ফুটে উঠেছে। এসব বক্তব্যের কারণে দেশের কওমিপন্থী আলেম-উলামা ও ধর্মীয় অঙ্গনের তাঁর প্রতি ইতোমধ্যে চরম আপত্তি রয়েছে।
বাংলাদেশের ধর্মীয় বাস্তবতায় হানাফি মাজহাব, কওমি মাদরাসা এবং পীর-মাশায়েখের অনুসারীরা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হলে, যাঁর মতাদর্শ ও অতীত বক্তব্য নিয়ে একটি বড় ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর আপত্তি রয়েছে,তা’নতুন করে সমাজে বিভাজন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
ওলামায়ে কেরামদের আশঙ্কা, শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে কওমিপন্থী আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তাই কাউকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলকে দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ধারার মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহŸান জানিয়েছেন তারা। দেশের ধর্মীয় স¤প্রীতি, ঐক্য ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার দাবি তাদের।
বিবৃতিদাতারা হচ্ছেন- ওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী (মুহতামিম, জামেয়া কাসেমিয়া, উত্তরা ঢাকা), মাওলানা আনোয়ারুল করিম যশোরী (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জামিয়া এজাজিয়া রেলস্টেশন, যশোর), মাওলানা মোশতাক আহমদ (মুহতামিম, দারুল উলুম, খুলনা), মুফতি সোহাইল আহমদ কাসেমী (সদরুল মুদাররিসিন, জামিয়া ইমদাদিয়া, যশোর), মুফতি হোসাইন আহমদ কাসেমী (শায়খুল হাদিস, জামেয়া মাদানিয়া যশোর), মুফতি কাফায়েতুল্লাহ আজহারী (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল মানহাল উত্তরা ঢাকা), মাওলানা আহমাদুল হক হবিগঞ্জি (সাবেক শায়খুল হাদিস, জামেয়া শারইয়া, মালিবাগ ঢাকা), মাওলানা আব্দুল বসির (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জামেয়া মাদানিয়া সুনামগঞ্জ), মাওলানা হেলাল আহমদ (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, হরিপুর মাদরাসা, সিলেট), মাওলানা নুরুল ইসলাম ফুরিগ্রামী (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, লাফনাউট মাদ্রাসা, সিলেট), মুফতি আতাউল করিম মাকসুদ (ডেমরা, ঢাকা), শায়খুল হাদিস মাওলানা রুহুল আমিন খান উজানবী (উত্তরা ঢাকা), মাওলানা নুরুল হক (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, বটগ্রাম মাদরাসা, কুমিল্লা), মুফতি শেখ মুজিবুর রহমান (শায়খুল হাদিস, জামেয়া মাদানিয়া আশরাফিয়া, পটুয়াখালী), মুফতি তাজুল ইসলাম আশরাফী (শায়খুল হাদিস, মদিনাতুল উলুম মাদরাসা, তিলপাড়া ঢাকা), মাওলানা আলী আকবর কাসেমী (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জাদুরচর মাদরাসা, সাভার ঢাকা), মুফতি আব্দুর রাজ্জাক কাসেমী (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জামিয়া ইসলামিয়া, বলিয়ারপুর, ঢাকা), মুফতি হামেদ জহিরী কাসেমী (শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল উলুমিয়া, মিরপুর ঢাকা), মুফতি সুলতান আহমদ (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জামিয়া আল মিকাত, জালকুড়ি, নারায়ণগঞ্জ), মুফতি জাকির হোসাইন খান কাসেমী (শায়খুল হাদিস, জামেয়া আরাবিয়া নতুনবাগ, রামপুরা ঢাকা), মুফতি ওয়ালিউল ইসলাম (মুহাদ্দিস, কাটাখালী মাদরাসা, রাজশাহী), মুফতি নাজমুল হাসান বিন-নুরী (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জামিয়া দারুল আমান, সাভার, ঢাকা), মুফতি আলী আশরাফ তৈয়ব (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জামেয়া হারুনিয়া, ঢাকা), মুফতি কেফায়েতুল্লাহ শফিক (মুহতামিম ও শায়খীল হাদিস, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, কক্সবাজার), মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমী (মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, খানকাহে হোসাইনিয়া মাদানিয়া, ময়মনসিংহ), মাওলানা মাসরুর আহমদ হবিগঞ্জী (মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস, জামেয়া উমেদনগর হবিগঞ্জ)।


