এলএনজি কার্গো সংকটে ফের তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প-কারখানা

জাতীয়
এলএনজি কার্গো সংকটে ফের তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প-কারখানা
১৮ আগস্ট ২০২৬

সময়মতো এলএনজিবাহী জাহাজ না আসায় মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধের পথে। টার্মিনালের মজুত তলানিতে নেমে আসায় শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে আবারও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। আগামী ২৩ আগস্টের আগে নতুন কোনো এলএনজি কার্গো আসার সম্ভাবনা না থাকায় পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় এর সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। সামিটের ভাসমান টার্মিনালসহ এলএনজি থেকে মোট প্রায় ৫৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হয়েছে। এর সঙ্গে দেশীয় উৎস থেকে যোগ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কয়েকটি কার্গো নির্ধারিত সময়ে দেশে না পৌঁছানোয় টার্মিনালগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। আগস্টে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও সোমবার পর্যন্ত একটিও দেশে পৌঁছায়নি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিকে, সোমবার রাতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক করে স্পট মার্কেট থেকে আরও দুটি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর আগে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে পাঁচটি কার্গো কেনার জন্য জরুরি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি কার্গোর জন্য প্রস্তাব পাওয়া গেলেও বাকি তিনটির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি।

এলএনজি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে সৌদি আরব থেকে আসা একটি কার্গো নিয়েও। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কার্গো গ্রহণে টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি আপত্তি জানিয়েছে। জাহাজটির নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের কারণে কার্গোটি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা চারটি কার্গোর মধ্যে দুটি সরবরাহের দায়িত্বে ছিল হংকংভিত্তিক ঝেনইউ শিপিং। এর একটি জাহাজের তথ্য গত রোববার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের দাবি, জাহাজটি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকায় সেটি গ্রহণ করা হয়নি। ওই জাহাজ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেনে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণত দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো আমদানি করা হয়। টার্মিনাল-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে চলতি আগস্টে নয়টি কার্গো আসার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে তিনটি দরপত্রের মাধ্যমে, একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়, একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে এবং চারটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে সংগ্রহের কথা।

দরপত্রের মাধ্যমে কেনা তিনটি কার্গোর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে গ্যাস সরবরাহ করেছে। আরেকটি কার্গো ২০ আগস্ট আসার কথা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকেও একটি কার্গো পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সৌদি আরামকোর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও সেটি থেকে এলএনজি গ্রহণ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন কার্গো দ্রুত দেশে না এলে আগামী কয়েক দিনে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, পরিবহন ও আবাসিক খাতে সংকটের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর টানা ২৭ দিন গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। পরে দুই দিন সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছিল। তবে কার্গো সরবরাহে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আবারও গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছে দেশ।