বাংলাদেশ জেলের নাম বদলে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’ করার উদ্যোগ
বদলে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ জেলের’ নাম
আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কারা বিভাগের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশ জেল’-এর পরিবর্তে এর নাম ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

আইজি প্রিজনস বলেন, আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারা বিভাগের আইন ও বিধিবিধান যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট’-এর একটি খসড়া প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
৫ কারাগার থেকে পালিয়েছিল ২,২৪৭ বন্দি
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরের সময়ে দেশের কয়েকটি কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও বিদ্রোহের ঘটনা এবং বন্দি পালানোর তথ্যও তুলে ধরেন আইজি প্রিজনস।
তিনি জানান, ওই সময়ের ঘটনায় পাঁচটি কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যায়। একই সঙ্গে কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়।
এর মধ্যে শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।
আইজি প্রিজনস বলেন, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করেছে। এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বা তথ্য এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কারাগারে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
কারাগারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফোনে কথা বলার সুযোগ বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন বলেন, কোনো বন্দিকে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি জানান, কারাগারে অনিয়ম ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও জানান তিনি।
অনুমোদন হয়েছে ১,৮৯৯ নতুন পদ
কারাগারের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইজি প্রিজনস।
তিনি বলেন, কারা বিভাগের জনবল ঘাটতি পূরণে নতুন করে ১ হাজার ৮৯৯টি পদ অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে কারাগারের নিরাপত্তা, বন্দি ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

