দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইতিহাসের সাক্ষী হবে আজকের দিন

জাতীয়
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইতিহাসের সাক্ষী হবে আজকের দিন
২০ আগস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। দুইজন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ হবে। ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালুর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। এরপর ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার দুই প্রার্থী থাকায় সেই দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটছে।

যেভাবে শুরু নির্বাচনী প্রক্রিয়া

গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর দুই প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বহাল থাকেন। ফলে আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আইন, ১৯৯১ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসারে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে।

ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য

জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি। তবে একটি আসন শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে থাকছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

বর্তমান সংসদে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২৪৭। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন সদস্যসহ রয়েছে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র সদস্য। ফলে সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বিজয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ সংসদ সদস্যদের নেই। ফলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বিএনপির সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

রিট খারিজ, ভোটে নেই আইনি বাধা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

গোপন ব্যালটে ভোট

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট সাদা কাগজে কালো প্রিন্টে তৈরি করা হয়েছে। ব্যালটের দুটি অংশ থাকবে। একটি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর ও ভোটারের পরিচিতি সংক্রান্ত তথ্য। সংসদ সদস্যরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্বাক্ষর দিয়ে মূল ব্যালট সংগ্রহ করবেন।

মূল ব্যালটে দুই প্রার্থীর নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে থাকবে। পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ভোট দিতে হবে।

৩৪৯ জন ভোটারের জন্য সমসংখ্যক ব্যালট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যালটও সংরক্ষণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সংসদ কক্ষে উপস্থিত থেকে পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন।

ভোট শেষে কক্ষেই গণনা

বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সংসদ কক্ষে ব্যালট বাক্স খোলা হবে। প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করা হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বৈধ ও বাতিল ব্যালট আলাদা করে গণনা করবেন। প্রতিটি প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন এবং কতটি ভোট বাতিল হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

এরপর নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নাম উল্লেখ করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করবে।

দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি হওয়ায় এবারের নির্বাচনকে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবে মির্জা ফখরুল এগিয়ে থাকলেও দুই প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনার পুরো প্রক্রিয়াই থাকছে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।