এআই দিয়ে আ.লীগপন্থি ভুয়া সংবাদ তৈরি, ২৯ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল অ্যানথ্রপিক

জাতীয়
এআই দিয়ে আ.লীগপন্থি ভুয়া সংবাদ তৈরি, ২৯ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল অ্যানথ্রপিক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ১৬ মাস ধরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে মার্কিন এআই গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘ডিটেকটিং অ্যান্ড কাউন্টারিং মিসইউজ অব এআই’ শীর্ষক ১৫৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাইবান্ধার ওই ব্যক্তি অ্যানথ্রোপিকের এআই চ্যাটবট ক্লাউডের ২৯টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে এই অপপ্রচার কার্যক্রম চালিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং কোডের সহায়তায় তিনি অন্তত ৩০০টি সম্পূর্ণ মনগড়া সংবাদ, ১ হাজার ৫০০টি ভুয়া শিরোনাম এবং ১ হাজার ৫০০টি ছবির জন্য প্রম্পট তৈরি করেন। ক্লাউড সরাসরি ছবি তৈরি করতে না পারায় এসব প্রম্পট ব্যবহার করে অন্য এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি তৈরি করা হতো।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরে এসব মনগড়া তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব এবং টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনামূলক কম শিক্ষিত মানুষ এবং প্রবাসীদের লক্ষ্য করে এসব কনটেন্ট প্রচার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুয়া সংবাদগুলো এমন উত্তপ্ত ও আক্রমণাত্মক ভাষায় তৈরি করা হতো, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলো বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ হিসেবে মনে হয়। ওই ব্যক্তির গোপন নথিতে এমন একটি মন্তব্যও পাওয়া গেছে—‘এই খবর যে ভুয়া তা কেউ জানে না।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপপ্রচারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির মতো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। বিভিন্ন মনগড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হতো, বিরোধী দলগুলো দেশে তালেবানি শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীতে নিজেদের লোক ঢোকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

এ ছাড়া তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে ভুয়া হত্যাচেষ্টার গল্প, দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এবং তাদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই অপপ্রচারের কিছু বার্তা ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে এসব কার্যক্রমে ভারত বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা, অর্থায়ন কিংবা নির্দেশনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকায় এসব কার্যক্রম কোনো সরকারের হয়ে পরিচালিত হয়নি; বরং বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এ প্রচারণা চালানো হয়েছিল।

অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের মাধ্যমে তারা অপপ্রচারে ব্যবহৃত ক্লাউডের হাইকু, সনেট ও ওপাস মডেলের অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করে বন্ধ করে দিয়েছে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।