সার নিয়ে সুখবর, দেশে চাহিদার চেয়েও মজুত ১৬ লাখ টন বেশি

জাতীয়
সার নিয়ে সুখবর, দেশে চাহিদার চেয়েও মজুত ১৬ লাখ টন বেশি
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে রবি ও বোরো মৌসুমে কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে সারের চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত সরবরাহের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার পৌঁছে দিতে জেলাভিত্তিক চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার ১৪ সেপ্টেম্বরের এক চিঠি এবং সংযুক্ত জেলাওয়ারি বরাদ্দ তালিকায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন উৎস থেকে সার বরাদ্দের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহের পরিমাণ ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন সার।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অক্টোবরে নন-ইউরিয়া সারের শতভাগ বরাদ্দ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাসে দেশের ৬৪ জেলায় টিএসপি সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন। চাহিদার পুরো পরিমাণই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, অক্টোবর মাসে ডিএপি সারের চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ১ হাজার টন এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ টন বরাদ্দ দিয়েছে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও পুরো চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এমওপি সারের অক্টোবরের চাহিদা ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন। এই পরিমাণ সারও জেলাভিত্তিক বরাদ্দের আওতায় আনা হয়েছে।

ফলে অক্টোবর মাসে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের মোট জেলাভিত্তিক চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সমপরিমাণ সার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বরাদ্দ দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি জেলার প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের চাহিদার সঙ্গে সার সরবরাহের সমন্বয় করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আমদানিতেও জোর

সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলাভিত্তিক বরাদ্দের পাশাপাশি আমদানির ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা হচ্ছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে আগস্ট মাসেও বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এসব আমদানির মধ্যে সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে এমওপি সার আনার প্রস্তাবও ছিল।

মজুতেও রয়েছে বড় পরিমাণ সার

সার ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন মজুত ছিল।

এ ছাড়া পরিবহনের পথে ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন।

সার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি এবং ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

চাহিদাভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগে চাহিদা নিরূপণ, জেলাভিত্তিক বরাদ্দ, আগাম আমদানি, মজুত এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের সমন্বিত সার ডিলার ও বিতরণ নীতিমালার আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো এলাকায় কতটুকু সার প্রয়োজন এবং কখন প্রয়োজন—এসব বিবেচনা করে সরবরাহ পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের চাহিদা অনুযায়ী জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং অক্টোবর মাসের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া। এজন্য আমদানি থেকে শুরু করে মজুত, পরিবহন, বরাদ্দ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।

কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মৌসুম শুরুর আগেই পর্যাপ্ত সার প্রস্তুত রাখা এবং জেলা পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়ার ফলে কৃষকের সময়মতো সার পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।