জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে

জাতীয়
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়িয়ে চাহিদা ও জোগানের ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট ২৬০ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৯৯ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজির সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করে গ্যাসের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুই দিনে বেড়েছে ২৭ কোটি ঘনফুটের বেশি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সোমবার জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় ২৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ঘনফুট। এর আগের দিন রোববার সরবরাহ ছিল ২৩৩ কোটি ১৯ লাখ ঘনফুট।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ২৬০ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে। এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ বেড়েছে ২৬ কোটি ৭ লাখ ঘনফুট। আর রোববারের তুলনায় মঙ্গলবার সরবরাহ বেড়েছে ২৭ কোটি ৪১ লাখ ঘনফুট।

অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনো রয়েছে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার উৎপাদনসহ গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের জোগান বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনো রয়েছে। দেশে দৈনিক প্রায় ৩৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় সরবরাহ ছিল ২৬০ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। ফলে জোগান ও চাহিদার ব্যবধান পুরোপুরি দূর হয়নি।

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান আরও স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।