চাঁদাবাজি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা, ছাড় পাবেন না সংসদ সদস্যরাও

জাতীয়
চাঁদাবাজি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা, ছাড় পাবেন না সংসদ সদস্যরাও

বিএনপির সংসদীয় দলের সভা। ছবি: সংগৃহীত

১২ অক্টোবর ২০২৬

দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘চাঁদাবাজ ও দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে নেই।’ দলের কেউ শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া সভা চলে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

সভা সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন, আইনের ঊর্ধ্বেও নন। সংসদ সদস্যদেরও জবাবদিহি করতে হবে। জনপ্রতিনিধিরা কর্মীবান্ধব না হয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়েও তাঁদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। দলের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা অন্য কোনো নেতাকর্মী অপকর্মে জড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তারেক রহমান।

আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন তিনি। নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।

বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধন এবং সংবিধান সংস্কারে গঠিত বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, দলের ঐক্য বজায় রাখা এবং প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেন সংসদ নেতা। নির্বাচনে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া জানান, বৈঠকে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জনগণের সঙ্গে থেকে কাজ করার এবং জনসন্তুষ্টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাধারণত জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগের দিন বা অধিবেশন শুরুর দিন সংসদীয় দলের এ ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভাব্য সংসদ অধিবেশনের আগেই এবার বিশেষ সভা আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।