সাবেক ১২ উপদেষ্টার ক্ষোভ

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চায় সরকার

জাতীয়
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চায় সরকার
১৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনকে নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে উত্থাপন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ মিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, অনলাইনে অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ জন সাবেক উপদেষ্টা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তাঁরা এসব ঘটনার কঠোর নিন্দা জানান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় তাঁরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সিআর আবরার, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বছরের পর বছর অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা, দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে দেশ সংকটের মুখে পড়েছিল। সে সময় অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, ওই সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটিয়েছিল, যা আগের শাসনামলে নিয়মিত ঘটত।

সাবেক উপদেষ্টারা আরও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, এর ধারাবাহিকতায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আগের শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিতভাবে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন সাবেক উপদেষ্টারা। তাঁদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

তাঁরা বলেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার, অনলাইনে হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাইয়ের প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার দুর্বল করা যাবে না।

সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজনকে তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে উচ্চ স্বরে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকার ও সাবেক উপদেষ্টাদের প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে।