১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই: শেখ রবিউল আলম

জাতীয়
১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই: শেখ রবিউল আলম

বক্তব্য রাখছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

১৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশে প্রাকৃতিকভাবে থাকা প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে পরিবেশের সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী ‘অষ্টম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপো—বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সমুদ্র, নদী ও জলরাশিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও এর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, সমুদ্রের সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। সমুদ্রের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অল্প সময়ের মধ্যেই এসব সম্পদ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধাসম্পন্ন গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদিও সেখানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিকে বাংলাদেশে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লালদিয়া ও পানগাঁওসহ বিভিন্ন বন্দর ও টার্মিনালে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি ডিপি ওয়ার্ল্ডকেও কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে জ্বালানি, লজিস্টিকস, বন্দর ব্যবস্থাপনা, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। মাছ আহরণ থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে অগ্রসর হলেও বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

সামুদ্রিক খাতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন শেখ রবিউল আলম। এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের মতো দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ খাতে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করা হবে।

ফসিল জ্বালানি থেকে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন প্রযুক্তিতে দ্রুত রূপান্তর অনেক সময় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে সামুদ্রিক ও অফশোর শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বৈঠক, সেমিনার ও প্যানেল আলোচনার আয়োজন রয়েছে। সামুদ্রিক পরিবহন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, বন্দর পরিচালনা ও অফশোর কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।