দেশে মোবাইল ব্যবহারকারী ছাড়িয়েছে ১৯ কোটি
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ছে। পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়ে ৫৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৯ কোটি। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও পরিবার পর্যায়ে এ হার কমেছে। কম্পিউটার ব্যবহারের হারও রয়ে গেছে ১২ শতাংশের নিচে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি ব্যবহার ও প্রয়োগ জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯.২ শতাংশে। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫৫ শতাংশ। একই সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার ৮৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯.৬ শতাংশ হয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহারের হারও ৭৪.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫.১ শতাংশে পৌঁছেছে।
ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ৮৭ লাখ
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার থেকে বেড়ে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার হয়েছে। আট মাসে গ্রাহক বেড়েছে ৮৬ লাখ ৭০ হাজার। এ সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৭৩.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭.৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
আগস্টে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার। অন্যদিকে, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কের (পিএসটিএন) মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ১ কোটি ৫৪ লাখ হয়েছে।
মোবাইল নেটওয়ার্কে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) ব্যবহারও বাড়ছে। জানুয়ারিতে ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার, যা আগস্টে বেড়ে ১২ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার হয়েছে। বিপরীতে, তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) গ্রাহক সংখ্যা ২১ লাখ ২০ হাজার থেকে কমে ১০ লাখ ৫০ হাজারে নেমেছে।
থ্রিজি ও ফোরজি ব্যবহারকারী মিলিয়ে মোবাইল ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের হার ৫৭.৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১.৯৪ শতাংশ হয়েছে।
মোবাইল গ্রাহক ১৯ কোটি ছাড়াল
বিটিআরসির হিসাবে, চলতি বছরের আগস্টে দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজারে। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ। অর্থাৎ, আট মাসে মোবাইল গ্রাহক বেড়েছে ৫২ লাখ ৯০ হাজার।
একই সময়ে ভয়েস ও ইন্টারনেট সেবা মিলিয়ে সামগ্রিক টেলিঘনত্ব ১০৫.৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০৮.২৭ শতাংশ হয়েছে।
তবে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও নিজস্ব ফোনের মালিকানার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, ৮৯.৬ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৫.৬ শতাংশের। আগের বছর এ হার ছিল ৬৪.২ শতাংশ। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীদের একটি অংশ পরিবারের অন্য সদস্য বা অন্য কারও ফোন ব্যবহার করেন।
কম্পিউটার ও পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার কমেছে
ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়লেও কম্পিউটার ব্যবহারে অগ্রগতি সামান্য। ব্যক্তি পর্যায়ে কম্পিউটার ব্যবহারের হার ১১.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১.৮ শতাংশ হয়েছে। তবে পরিবার পর্যায়ে কম্পিউটারের মালিকানার হার ৯.২ শতাংশ থেকে কমে ৯.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হারও কমেছে। আগের বছরের ৫৯.৭ শতাংশ থেকে তা নেমে এসেছে ৫৮.২ শতাংশে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও পরিবার পর্যায়ে হার কমে যাওয়ায় ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, ফিক্সড-লাইন বা ল্যান্ডলাইন টেলিফোনের ব্যবহারও কমছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে মাত্র ০.৭ শতাংশ পরিবারের ফিক্সড-লাইন টেলিফোন ছিল। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ০.৯ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহে বিশেষ জরিপ
বিবিএসের ‘ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে জেলাভিত্তিক আইসিটি প্রবেশাধিকার ও ব্যবহার পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে কম্পিউটার-সহায়তায় সরাসরি সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ জরিপে প্রথমবারের মতো জেলাভিত্তিক প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতি প্রান্তিকে ২ হাজার ৫৬৮টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি এলাকায় ২৪টি করে পরিবার অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রতি প্রান্তিকে ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবার জরিপের আওতায় আসে। বছরে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
২০২৪-২৫ সালের জরিপের ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ সালের জরিপটি এ সিরিজের দ্বিতীয় পর্যায়। আইসিটিবিষয়ক নীতি প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে প্রতিবেদন প্রদান এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পর্যবেক্ষণে এ জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হবে। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পর্যবেক্ষণের জন্য ২২টি সূচক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


