এনআইডির আবেদন করে বায়োমেট্রিক না দিলে আবেদন বাতিল
অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করে দীর্ঘদিন বায়োমেট্রিক তথ্য না দেওয়া আবেদনকারীদের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের তথ্য না দিলে সংশ্লিষ্ট আবেদন আর বহাল থাকবে না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইসি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কার্যালয় বা বুথে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে। অন্যথায় নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হলে আবেদনটি সার্ভার বা সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে সার্ভারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় আবেদনের চাপ কমবে। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্য না দিয়ে আবেদন ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতাও বন্ধ হবে।
এদিকে এনআইডি সার্ভার ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়ে জমে থাকা পুরোনো নথিপত্র ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী অপসারণের সিদ্ধান্তও নিয়েছে ইসি।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত স্ক্যান করা ও সার্ভারে আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম-২-এর কাগজের কপি এবং কার্যালয়ের গুদামে থাকা অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে ফেলতে হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
তবে সব পুরোনো নথি অপসারণ করা হবে না। ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম আগের মতোই সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে। শুধু ২০১২ সালের পর থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে সংরক্ষিত ফরমগুলোর কাগজের কপি অপসারণ করা হবে।
নথিপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাতিলের জন্য নির্ধারিত ফরম ও কাগজপত্র খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না। এসব কাগজ সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।


