প্রেস ব্রিফিংয়ে লে. কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম

করিডোর ইস্যুতে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান: জাতীয় স্বার্থে আপোষ নয়

জাতীয়
করিডোর ইস্যুতে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান: জাতীয় স্বার্থে আপোষ নয়
নিউজ ডেস্ক
২৬ মে ২০২৫

জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনী কখনও জড়াবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লে. কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। সোমবার সেনা সদরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে করিডোর ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সেনাবাহিনীর অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট—এখানে কোনো রকম আপোষের সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গত ৫ আগস্টের পর থেকে সেনাবাহিনী দেশের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। কেউ যদি মব গঠন করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি কারখানায় কেএনএফের পোশাক উদ্ধারের ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি সেনাবাহিনী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব


ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ৪০ দিনে ২৪১টি অবৈধ অস্ত্র ও ৭০৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৯ হাজার ৬১১টি অবৈধ অস্ত্র ও ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬১ রাউন্ড গুলি। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ২৬৬ জন অপরাধী, যার মধ্যে কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারি, চাঁদাবাজ, অপহরণকারীসহ বিভিন্ন অপরাধচক্রের সদস্য রয়েছে।


যৌথ অভিযানে গত এক মাসে ৪৮৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও আগস্ট থেকে মোট ৪ হাজার ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও দেশি-বিদেশি মদও উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।


আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে মহাসড়কে টহল, চেকপোস্ট এবং টিকিট কালোবাজারি রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে সেনাবাহিনী। ঢাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার থাকবে।


সাম্প্রতিক সময়ে ভেজাল খাদ্যদ্রব্য ও জেলি মিশ্রিত চিংড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেটকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এসব অভিযান জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

জুলাইয়ে অভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংসতায় আহত ৪ হাজার ৫৯৬ জনকে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৬ জন।