নভেম্বরে রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু সম্ভব হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

অন্যান্য
নভেম্বরে রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু সম্ভব হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
১২ জুন ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চলতি বছরের নভেম্বর মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, প্রকল্পের সার্বিক কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই কেন্দ্র চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বড় পরিমাণ নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা শিল্প উৎপাদন, কৃষি এবং অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান ও নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি জানান, রিঅ্যাক্টর ফুয়েল লোডিং, সেফটি সিস্টেম যাচাই এবং কমিশনিং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ শেষের পথে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) গাইডলাইন অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্প চালু হলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এটি বেসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যার ফলে গ্যাস ও ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি বড় অর্জন। পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর প্রকল্প চালু হলে দেশের শিল্প খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।