কলার মোচা ও থোর খেলে কী উপকার মেলে?

অন্যান্য
কলার মোচা ও থোর খেলে কী উপকার মেলে?
নিউজ ডেস্ক
২০ জুন ২০২৬

কলা শুধু জনপ্রিয় একটি ফলই নয়, এর গাছের বিভিন্ন অংশও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। কলার মোচা (ফুল) ও থোর (কাণ্ডের ভেতরের নরম অংশ) দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পুষ্টিবিদদের মতে, এসব অংশে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান।

হজমে সহায়ক

কলার থোরে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে উপকারী

আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় কলার থোর ও মোচা দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

গবেষণায় দেখা গেছে, কলার মোচায় থাকা কিছু উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

কলার বিভিন্ন অংশে থাকা পটাশিয়াম ও আঁশ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। ফলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে মোচা ও থোর রাখা যেতে পারে।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক

কলার থোরে কিছু পরিমাণ আয়রন ও ভিটামিন বি৬ পাওয়া যায়, যা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক খাদ্য হিসেবে এটি বিবেচিত হতে পারে।

কিডনির স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য উপকার

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত আঁশ ও তরলসমৃদ্ধ খাবার কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। তবে কিডনির পাথর প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় কলার থোরের কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

শরীরের সার্বিক সুস্থতায়

কলার মোচা ও থোরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের কোষ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপকার দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে কলার মোচা ও থোর খাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো রোগের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের জন্য এগুলোর ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।