ছাত্রদলের হামলায় জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন আহত

অন্যান্য
ছাত্রদলের হামলায় জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন আহত
৪ আগস্ট ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

জকসু প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের দাবিতে তারা প্ল্যাকার্ড তৈরি করেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জকসু প্রতিনিধিদের কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

জকসুর প্রতিনিধিদের দাবি, এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয়।

ঘটনায় জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিনিধি প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এ সময় জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার একপর্যায়ে অডিটোরিয়ামের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জকসু নেতারা ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরতেই তারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

জকসু সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, আমন্ত্রণ জানানোর পরও তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং জকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।